ঢাকা ০৩ এপ্রিল ২০২৫ , ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫

​দুদকের মামলায় খালাস পেলেন লোকমান ভূঁইয়া

নতুন দেশ ডেস্ক
আপলোড সময় : ০২-০৩-২০২৫ ০২:৩৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
​দুদকের মামলায় খালাস পেলেন লোকমান ভূঁইয়া

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের সাবেক ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বিসিবির সাবেক পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের সাবেক ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বিসিবির সাবেক পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ছিল মানিলন্ডারিং।


গত ২৬ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত নম্বর-৬ লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনীত মানিলন্ডারিং মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই রায় দিয়েছেন।

লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অস্ট্রেলিয়াতে তিনি ৪১ কোটি টাকা পাচার করেছেন। কিন্তু তদন্ত করে সেখানে ৪৮৭ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পাওয়া গেছে বলে জানান তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. ইসমাইল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে, লোকমান হোসেন ভূঁইয়া কোনো মানিলন্ডারিং করেননি। মানিলন্ডারিংয়ের যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল সেসব প্রমাণাদি আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি রাষ্ট্রপক্ষ।’ জজ আদালত এই মামলার রায়ে আদেশ দিয়ে জানিয়েছেন, ‘অত্র মামলার (মামলা নং-১৫২/২০১৯, দুদক.জি আর নং-১৩৩/২০১৯) একমাত্র আসামি মো. লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনীত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিকে নির্দোষ সাব্যস্তে বেকসুর খালাস প্রদান করা হলো। আসামির জামিনদারদের জামিন নামার দায় হতে অব্যাহতি দেওয়া হলো। আসামির নামীয় কোনো হিসাব বা লকার অবরুদ্ধ বা ক্রোক থাকলে বা বিদেশ গমনে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকলে, স্থাবর সম্পত্তির ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা আসামির অনুকূলে অবমুক্ত করা হোক।’

লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ক্লাবের হলরুম ভাড়া বাবদ প্রতিদিন ৭০ হাজার টাকা জমা না দেওয়ার। এই অভিযোগের পক্ষেও কোনো প্রমাণাদি আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া যায়নি। ব্যারিস্টার মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ক্লাবের হলরুম থেকে ভাড়া বাবদ প্রতিদিন যে ৭০ হাজার টাকা করে পাওয়া যায়, সেই টাকা ক্লাবে জমা দেওয়ার প্রমাণ আছে। অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে আদালতে, এমন কি এজিএমে অনুমোদনও আছে। তাই আদালত লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার বিপক্ষে আনা অভিযোগ খারিজ করে তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন।’

এদিকে লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার আইনজীবী যখন সাংবাদিকেদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন মোহামেডান ক্লাবের বোর্ড সভা হচ্ছিল গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান জেনারেল (অব.) মো, আব্দুল মুমিনের অফিসে। সেই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন হানিফ ভূঁইয়া, মাহবুব আনাম, মাসুদুজ্জামান, আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স, খাজেস্তা নূর-ই নাহরিন, জামাল রানা। ক্লাবের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। আগামী মে মাসের মধ্যে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন ও ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ক্লাবের নির্বাচন করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। তিনি ইতোমধ্যে মোহাম্মদপুর ক্রিকেট একাডেমি থেকে বিসিবির কাউন্সিলরও হয়েছেন। এ-সংক্রান্ত চিঠি বিসিবিকে দেওয়া হয়েছে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ